রবিবার, ১২ আগস্ট, ২০১২

দণ্ডিত মৃত্যুর দিকে

  চমৎকার সব গল্প বলে জমিয়ে তুলছিলাম আসর। রাজকন্যা আর রাজপুত্রের গল্প শুনিয়ে প্রচণ্ড বাহবা পেলাম। ঘুঘু পাখি আর নীল তিমির গল্পেও তাদের প্রীত দেখি। আমিও উচ্ছ্বসিত হয়ে আমার ঝোলা থেকে একের পর এক গল্প বের করে ছুড়ে দিতে লাগলাম শ্রোতাদের দিকে বিস্ময়কর জাদুকরের মতো। দুঃখিনী রাজকন্যার গল্প শুনে কেঁদে বুক ভাসালো রমনীকুল। দয়ালু রাজার গল্প শোনার পর নগরপতি আমার দিকে ছুড়ে দিলো স্বর্ণমুদ্রা। মন্ত্রী কন্যা আর ভিনদেশী রাজপুত্রের গল্প শোনার পর তরুণীরা গোলাপ পাপড়িতে ভরে দিলো আমার আসন আর তরুণরা নিয়ে এলো সুরার পাত্র। তারপর সুরার নেশায় যাপনের দোতনায় বের হয়ে এলো অনেক গল্প। ঈশ্বর কর্তৃক কুমারী ধর্ষনের গল্পটাও তারা মেনে নিলো। শুধু মেনে নিতে পারলো না ধর্মগুরু আর নগরপত্নীর গোপন প্রনয়ের গল্পটি। যারা সারা রাত ধরে আমার গল্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো তারাই গল্প বলার অপরাধে আমাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করলো।

শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১২

দ্য গেইম


১
সে গুণে দেখলো বড় প্যাকেটটিতে আরো ১৬৮ টি কনডম রয়ে গেছে। তাহলে গত তের মাস চব্বিশ দিনে ৭২ টি কনডম ব্যবহার হয়েছে, মনে মনে ভাবলো সে। কারণ প্যাকেটটি ছিলো বিশ ডজন আমেরিকান কনডমের। পারিবারিক স্বাস্থ্যক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী মহিলাটির কাছ থেকেই সে কিনে এনেছিলো। এখনো দিব্যি মনে আছে। মহিলা বলেছিল এতোগুলো জিনিস আসলে একজনকে একসাথে দেয়া হয় না। সে কখনো মহিলার চোখের দিকে চোখ রাখেনি। মহিলা খুচরা দিতে পারছিলো না বলে আরো এক প্যাকেট দিয়ে দিবে কিনা জিজ্ঞেসও করেছিলো। কিন্তু তারপর মহিলা নিজ থেকেই বললো, মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তখন সে দেখছিলো টেবিলের কাচের নিচে জন্মনিয়ন্ত্রনের বিভিন্ন পদ্ধতির ছবি সম্বলিত কাগজটার বর্ণনা। না, সে ঠিক ছবি দেখছিলো না আর বর্ণনাও পড়ছিলো না। কিন্তু সে ও দিকেই তাকিয়ে ছিলো। আর যখন মহিলা ২০ ডজন আমেরিকান কনডমের প্যাকেটটি একটা পুরনো খবরের কাগজে মুড়িয়ে তার সামনে রেখে মহিলার নির্ধারিত আসনটিতে বসে বললো, এই নিন। তখনই সে খেয়াল করলো যে, সে খুব গভীর দৃষ্টি নিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রনের পদ্ধতিগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে যদিও প্রকৃত অর্থে তার ওদিকে কোন মনোযোগই ছিলো না এবং মহিলাটি এটি টের পেয়ে গেছে ভেবে সে কিছুটা বিব্রত হয়েছিলো। হ্যাঁ, তার এই প্যাকেটটিতে এখন ১৬৮ টি কনডম অবশিষ্ট্য রয়েছে।
২
কনডমগুলো হাতে নিয়েই সে মনে করতে চেষ্টা করলো তার স্ত্রীর সাথে তার শেষ কথোপকথন কি ছিলো। তার মনে পড়লো, গত মাস তিনেকের শীতলতার পর সেদিন ঘুমন্ত তাকে তার স্ত্রী চুমু খেয়েছিলো। চুমুর পর সে যখন তার স্ত্রীকে ঘুমের ঘোরে আরো কাছে জড়িয়ে নিতে চাইলো তখন তার স্ত্রী অভিযোগ তুললো তার মুখে ঘুমের গন্ধ লেগে আছে। তারপর ঘুম ভেঙ্গে গেলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে নির্ধারিত সময়ের পঁচিশ মিনিট পর তার ঘুম ভেঙ্গেছে। সে নিজেকে স্ত্রীর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বিছানা থেকে নেমে স্নানঘরে ঢুকে। স্নানঘর থেকে বের হয়ে প্রতিদিনের মতো টেবিলে সাজানো সকালের রুটি আর ভাজি খেয়ে নেয়। তারপর চা খেতে খেতে শার্ট আর প্যান্টটা পড়ে নেয়। তখন তার স্ত্রী জানালা দিয়ে ওপাশে পুকুরের স্নানরত মানুষদের দেখছিলো। যাওয়ার সময় সে বলেছিলো, যাচ্ছি। এ কথা শুনে তার স্ত্রী 'আচ্ছা' বলেছিলো কি না সে মনে করতে পারলো না। যদি 'আচ্ছা' বলে থাকে তবে সেটাই ছিলো তার শেষ কথা। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে সে তার স্ত্রীকে আর বাসায় পায়নি।
৩
স্ত্রীর সাথে এমনিতে তার সম্পর্ক খারাপ ছিলো না। মূলত সে নিজেও মানুষ খারাপ নয়। চারবছরের সংসার জীবনে স্ত্রীর সাথে তপ্ত বাক্য বিনিময় পর্যন্ত হয়নি। সে ভেবে দেখলো, তার স্ত্রীকে নিয়ে সে সুখেই ছিলো। এমনিতে সে একটু আত্মকেন্দ্রিক চাপা স্বভাবের। নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগাগুলোও স্ত্রীর সাথে শেয়ার করেনি। সে মনে করতে পারলো না, স্ত্রীর সাথে সে কি বিষয় নিয়ে কথা বলতো। তাদের যৌন সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয় সেদিন থেকে যেদিন সে আবিষ্কার করলো তার স্ত্রী মাঝ রাত্রিতে কারো সাথে ফোনসেক্স করছে। খু্ব ঘেন্না ধরে গেলো তার। সে আর তার স্ত্রীর প্রতি সেক্স অনুভব করতো না।
৪
ফোনসেক্স না, অন্যকারো সাথে সঙ্গম করলেও তার হয়তো এতোটা ঘেন্না লাগতো না যদি তার স্ত্রী তার সাথে প্রতারনা না করতো। তার মনে হলো এটা প্রতারনা। হ্যাঁ, সেটা রুমেলই হবে হয়তো। রুমেল তার চেয়েও সুদর্শন। বয়সেও বছর চারেকের ছোট। আচরণে চমৎকার। তার সাথে রুমেলের পরিচয় করিয়ে দেয় তারই এক বন্ধু। সিনেমা পাগল রুমেলকে একদিন সে বাসায় নিয়ে আসে। তার সিনেমার সংগ্রহ ছিলো খুব। রুমেলেরও ছিলো। তাই ঘন ঘন সিনেমা দেয়া নেয়ার ব্যাপারে বাসায় আসতে শুরু করে। ঘন ঘন আসাটা প্রতিদিন আসায় রূপ নিলো। সে বুঝতে পারলো, রুমেলের ভার্চুয়াল সিনেমার চেয়ে বাস্তবিক কোন সিনেমার প্রতি আকর্ষণ রয়েছে। এবং ব্যাপারটায় সে নিজেও মজা পাচ্ছিলো। দেখা যাক বিষয়টা কোন দিকে গড়ায়- ভেবেছিলো সে।
৫
গেইমটা সে খেলতে চেয়েছিলো রুমেলের সাথে আর খেলার উপকরণ ছিলো তার স্ত্রী। নিজের উপর প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস ছিলো তার। রুমেলকে সে বেশ কিছু সুযোগও দিলো, রুমেল যেন ভাবে খেলোয়ার হিসেবে সে দুর্বল ও বোকা। কিন্তু এক সকালে রুমেল একটা ভুল চাল দিলো আর সাথে সাথেই সে ধরে বসলো রুমেলকে। বোকাচোদা রুমেলও সাথে সাথে তার পায়ের কাছে পড়ে গেলো। অনুনয় করে বলে উঠলো, 'ভাই, আমি শুধু আপনার কাছেই আসি। আমার কোন দোষ নাই। আমার মনে কোন পাপ নাই।' শালা খেলা জমার আগেই হেরে বসতে চায়! ওখানেই খেলা শেষ করতে চায়নি। আরো খেলতে চেয়েছিলো সে। তাই নিজেকে সামলে নিয়ে সেজে বসেছিলো বিরাট বোকা। যেন এসবের কিছুই বোঝে না। কিন্তু কিছুদিন পরই বুঝতে পেরেছিলো আসলে সে নিজেই হেরে যাচ্ছে। বলই যখন গোলপোস্টে ঢুকে যায় নিজের ইচ্ছায় খেলোয়ারের দক্ষতা সেখানে অসহায়।
৬
সেই রাতে যখন সে প্রথম আবিষ্কার করে তার স্ত্রী তাকে ফাঁকি দিয়ে ফোন সেক্স করছে, প্রথমে সে বিপন্ন বোধ করে। সে বুঝে উঠতে পারে না যে তার কি করা উচিত। আর এরপর থেকে সে তার স্ত্রীর প্রতি প্রচণ্ড ঘেন্না অনুভব করে। মনে হয় তার প্রতারক স্ত্রীর শরীর জুড়ে শুয়ো পোকা আর শুয়ো পোকা। কাপড় নাড়লেই টপাটপা পড়তে থাকবে। তাকে তার ছুঁতে ইচ্ছে করতো না মোটেও। তারপর ধীরে ধীরে দূরত্বের বসবাস এবং একদিন তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে রুমেলের কাছে চলে যায়। তার স্ত্রী চলে যাওয়ার পর সে বিভ্রান্ত হয়ে যায় এই ভেবে যে গেইমটিতে তার অবস্থান কোথায়, জয়ে না পরাজয়ে? কিন্তু আজ ১৬৮ টি কনডমের প্যাকেট হাতে সে যখন স্ত্রীকে অন্যের আশ্রিতা ভেবে ভোগের কল্পনায় তখন তার শরীর প্রচণ্ড জেগে ওঠে আর নিজেকে খুব জয়ী মনে হয়। সে ১৬৭ টি কনডম বাতাসে ফুলিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রাখে আর অন্যটি তার শরীরে।

মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১২

ছায়াদর্জির গল্প


১
আমাদের শহরপাড়ায় এক দর্জি ছিলেন। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। ফর্সা মুখের তুথনিতে এক গোছা শাদা দাড়ি। মাথায় শাদা গোল টুপি। শাদা লুঙ্গি আর কখনো শাদা গেঞ্জি অথবা পাঞ্জাবি পড়ে তার কুঁড়ে ঘরটার একটা অংশ দোকানের মতো খুলে নানা রঙের কাপড় নিয়ে সারাদিন আপন মনে সেলাই করতে দেখতাম। কী সব পোশাক তিনি সেলাই করতেন তা জানতাম না। একদিন বাবার লুঙ্গি সেলাই করতে নিয়ে গিয়েছিলাম তার কাছে। আমার দিকে না তাকিয়েই এক মনে লাল রঙের একটা কাপড় সেলাই করতে করতে জানালেন, তিনি লুঙ্গি সেলাই করেন না। বন্ধুদের কাছে শুনেছি তারাও কারো শার্ট, কারো ভাবীর ব্লাউজ কিংবা বোনের কামিজ সেলাই করতে নিয়ে গিয়ে ফেরত এসেছে। আমরা ভাবতাম, তাহলে সারাদিন তিনি কী সেলাই করেন এতো!

২
এক দুপুর শেষে খাবার জন্য ঘরে ফেরার পথে দেখি দর্জি তার ভারী কালো ফ্রেমের চশমার ভেতর দিয়ে এক দৃষ্টে সূক্ষ্মভাবে দেখে কী যেন সেলাই করছেন। ভাবলাম, গিয়ে দেখি তার সেলাইকৃত পোশাকটা কী? কিন্তু নীল একটা কাপড় ছাড়া সেটা শার্ট না পাঞ্জবী অথবা অন্য কোন পোশাক কিনা কিছুই বুঝলাম না। তিনি অকস্মাৎ সেলাই থেকে চোখ সরিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন আমি কী চাই। আমার পকেট থেকে ঘামমোছা শাদা রুমালটা বের করে দিয়ে বললাম, বামহাতের একটা দস্তানা বানিয়ে দিতে। তিনি মৃদু হেসে বললেন, তিনি দস্তানা বানান না। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, তবে তিনি কি বানান? তিনি গম্ভীর হয়ে বিরক্ত সহকারে আমাকে আমার কাজে যেতে বললেন। আমি বেরিয়ে এসে আমার বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করে বাম হাতে রুমালে ঘাড়ের ঘাম মুছতে মুছতে মনে মনে রাগ ঝারলাম, 'বালের দর্জি হইসে! বাল সেলাই করে!'

৩
তারপর একদিন শীতের মৌসুমে যাত্রাবালার নাচ দেখে রাত করে ঘরে ফেরার সময় দেখি ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আমার ছায়া পড়ছে না। ভাবলাম কুয়াশা আলো খেয়ে ফেলায় হয়তো আমার ছায়া দেখছি না, যদিও সে রাতে কুয়াশা ছিলো না তেমন একটা। কিন্তু ঘরে এসে টাংস্টানের হলুদ বাতিতেও দেখলাম আমার ছায়া নেই। প্রচণ্ড বিস্ময় নিয়ে ঘুমাতে গেলাম। পরদিন সূর্য উঠতেই দৌড়ে মাঠে দাঁড়ালাম। নাহ্, কোন ছায়া নেই। কিছুতেই স্মরণ করতে পারলাম না শেষবার কখন ছায়াটাকে আমি দেখেছিলাম।

৪
বিষয়টা রটে গেলো। আমি প্রচণ্ড বিব্রত। বাবা-মাও দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হলেন।পরিচিতরা দেখা হওয়া মাত্রই আমার ছায়া সম্পর্কে খোঁজ-খবর জিজ্ঞেস করতো। যেন আমার চেয়ে আমার ছায়ার গুরুত্ব বেশি। যদিও ছায়া থাকা আর না থাকা তেমন গুরুতর কোন বিষয় না। কিন্তু আলোতে গেলেই ছায়াহীনতা আমার বুকের মাঝে শূন্যতার সৃষ্টি করতো। খুব মন খারাপ হতো। লেজকাটা শেয়ালটার মতো বিব্রত থাকতাম সবসময়। বুঝতে পারি আমাকে দেখে লোকজন গোপনে হাসাহাসি করে। আর ব্যতিক্রম যে এই সমাজ সহজে মেনে নিতে পারে না সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম।

৫
ছায়া হারানোর কষ্ট আর লোকজনের তীর্যক মন্তব্য ও অস্বাভাবিক আচরণ আমাকে প্রচণ্ড আহত করায় মন খারাপ হতো খুব। কেউ আমাকে বোঝার চেষ্টা করতো বলে মনে হতো না আমার কাছে। তাই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি আমাদের নদীটার উপর নির্জন রেলব্রীজটার পাশে চুপচাপ বসে থাকতাম। লক্ষ্য করলাম রেলব্রীজটার অদূরে তিনতলা একটা বাড়ির ছাদ থেকে একটা কিশোরী আমাকে চুপচাপ দেখে। আমার মনে হলো আর আর মানুষের মতো সেও আমার ছায়াহীনতা আমাকে জোকার কিংবা অদ্ভুত কোন এক প্রাণীর মতোই ধরে নিয়ে আগ্রহ থেকেই চুপচাপ আমাকে দেখার চেষ্টা করে। এক বিকেলে হাঁটতে আসার ছলে কিশোরী আমার পাশে এসে দাঁড়ায় এবং জিজ্ঞেস করে কেন শুধু শুধু আমি মন খারাপ করছি। আর এও বলে, ছায়া এমন কোন গুরুতর বিষয় নয়। আমি তাকে এই বলি যে, সে যদি তার ছায়া হারাতো তাহলে সে বুঝতে পারতো। তখন সে জানায় তার এক মামাতো ভাই যে কিনা সালমান খানের মতো দেখতে ছিলো, সে ছায়া হারিয়ে ছায়ার কষ্টে আত্মহত্যা করে। তাই সে ভয় পাচ্ছে আমিও এমন কোন কিছু করে বসি কিনা। আমি চুপচাপ ঘরে ফিরি সে দিন।

৬
বন্ধুবান্ধব আমাকে নিয়ে বিব্রত, বিব্রত আত্মীয় স্বজনও। কোন কোন আত্মীয় স্বজন বাসায় এসে বাবা মাকে কথা শুনিয়ে যায়। আমার ছায়া আমাকে ছেড়ে যাওয়ায় তারা সমাজে মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছে না। বাবা-মারও সহ্যের সীমা অতিক্রান্ত হলে আমাকে ছায়া ছেড়ে যাওয়ার কথা বলে তিরস্কার করে। আমার খুব মন খারাপ হয়। আমিও ভাবি এই উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে আমাকে আত্মহত্যার পথই বেছে নিতে হবে। এ ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

৭
সকালে এসে দাঁড়িয়েছি রেল ব্রীজটার কাছে এই ভেবে যে প্রথম যে ট্রেনটা আসবে সেটার নীচেই কাটা পড়ে মারা যাবো। কিছুক্ষণ পর কিশোরীটা এসে হাজির। সেদিনের পর থেকে সে প্রায়ই এসে আমার সাথে ছায়া এবং তার মামাতো ভাই সম্পর্কে কথা বলতো। তাকে আমি জানালাম আজই তার মামাতো ভাইএর মতো আমিও ছায়াহীন দেহ ত্যাগ করবো। সে বিষণ্ণ হলো। আমাকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করলো যে ছায়াহীনতা কোন বিষয় নয়। দূরে কোন শহরে গিয়ে একা একা বেঁচে থাকাও সম্ভব, সে একথাও বললো। শেষে সে তার নিজের ছায়াটাই আমাকে দিয়ে দিতে চাইলো। আমি জানতে চাইলাম, সে ছায়াহীন কি করে বাঁচবে এবং তার কি ছায়ার জন্য শূন্যতা অনুভূত হবে না আর তার বাবা-মা, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু বান্ধব তাকে নিয়ে বিব্রত বোধ করলে সে তা কিভাবে মোকাবেলা করবে। সে দৃঢ় কণ্ঠে জানালো এগুলো তার কাছে কোন বিষয় না। আমি তাকে আমার শঙ্কার কথা জানিয়ে দিলাম, ছায়ার অভাবে হয়তো তার বিয়েও হবে না কোনদিন! আর তাই আমি তার এতো বড়ো ক্ষতি করে তার ছায়া নিতে অস্বীকৃতি জানালাম। শেষে সে আমাকে পাঁচ বছরের জন্য ছায়াটা ধার দেয়ার কথা বললো। সে জানালো, পাঁচ বছরের আগে তার বিয়ের সম্ভাবনা নেই। তার যখন বিয়ে হবে তখন সে তার ছায়াটা আমার কাছ থেকে ফেরত নিয়ে যাবে। এ কথায় ছায়াহীন ক্লান্ত নিস্তেজ এবং বিপর্যস্ত আমি তার সিদ্ধান্ত মেনে নিলাম। কিন্তু সমস্যা হলো তার দেয়া ছায়াটা আমার সাথে আসে না। সে চলার সাথে সাথে ছায়া তার সাথে চলে যায়। কিছুতেই ছায়াটাকে আমার সাথে চলাতে পারছিলাম না। সে তখন পরামর্শ দিলো, তার ছায়াটা আমার পায়ের সাথে সেলাই করে নিলে হয়তো ছায়াটা আমার সাথেই থাকবে। তবে ছায়া সেলাই করার মতো এমন সূক্ষ্ম সেলাই জানা দর্জি পাওয়া কঠিন বলেও সে জানালো। আমার তখন আমাদের পাড়ার সেই দর্জিটার কথা স্মরণ হয়। আমি কিশোরী আর তার ছায়াকে নিয়ে দর্জির কাছে যাই। দর্জি তখন কি যেন একটা সেলাই করা নিয়ে ব্যস্ত। তাঁকে গিয়ে অনুরোধ করে বললাম তিনি যেন আমার সাথে কিশোরীর ছায়াটা সেলাই করে দেন। তিনি কিছু বললেন না। আমি ভাবলাম এবারও হয়তো তিনি সেলাই করতে চাইবেন না এবং আমাদের চলে যেতে বলবেন। কিন্তু তিনি তার হাতের কাজটা রেখে উঠে গিয়ে তাকে রাখা একটা বাকশো থেকে বের করে নিয়ে আসলেন সোনামুখি সুই, চিকন সুতো আর এক টুকরা টকটকে লাল কাপড়। তারপর ভারী চশমাটা চোখে লাগিয়ে খুব নিপুন ভাবে কিশোরীর ছায়াটাকে আমার পায়ের সাথে লাল কাপড়ের জোড়া দিয়ে সেলাই করে দিলেন।

শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১১

দিন যাপনের খসড়া খাতা ১

০১.০১.২০১২

ভাবছি তুমি আমাকে ভালোবাসো কেন? বুড়িয়ে গেছিতো। সাতাশ পাড়ি দিচ্ছি। সামনের সেপ্টেম্বরে আটাশ হয়ে যাবে। অথচ জীবন পচা ডিমের গন্ধ ছড়াচ্ছে।

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১১

ভেতরে নীল রঙের ষড়যন্ত্র

একটা নির্বোধ পোকা কেটে গেছে আমার প্রিয় শীতের সোয়েটার
এটা পরে আমি আর বাইরে যেতে পারি না, হুহু করে শীত ঢুকে যায়

তবু পোকাটার জন্য আমার মায়া হয়, নাম না জানা দাঁতাল পোকা

শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০১১

এক বাক্যের গল্প

গল্প:০১>
একদিন নদী থেকে আঁজলা ভরে জল নেয়ার সময় আঙুলের ফাঁক দিয়ে সব জল পড়ে যেতে দেখে ঠাকুরদা শঙ্কিত হয়ে বলেছিলেন, 'তোর আঙুলের ফাঁক দিয়েতো তুই তোর ভবিষ্যত ফেলে দিবিরে!' তারও বহুদিন পর মনে হলো সত্যি সত্যিই বুঝি আঙুলের ফাঁক দিয়ে আমি আমার সব কিছু ফেলে এসেছি
গল্প:০২>
সারাজীবন নয়টা-ছয়টা অফিস করে আধপেটা খেয়ে একটাকা দুইটাকা করে জমিয়ে এবং শেষ বয়সে পেনসনের টাকাটা পেয়ে তিনি যখন বাড়ি করছিলেন তখন বাড়ির ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ার, শ্রমিক, ইটকাঠপাথর, এলাকার ছেলেপেলে ইত্যাদির ধকল সইতে না পেরে বুক চেপে মরে গেলে মসজিদের মাইক থেকে তার মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা হলে ঘোষকের সাথে সাথে আমরাও ইন্নালিল্লাহে ওয়াইন্নাইলাহে রাজিওন বললাম
গল্প:০৩>
কালো মেয়েটি ফেয়ার এন্ড লাভলি মেখে মেখেও ছেলেটির উদাসীনতায় নিজেকে ব্যর্থ ভেবে 420 আব্দুল করিমের সাথে চলে গেলে, উদাসীন ছেলেটি মেয়েটির কালো অথচ মিষ্টি মুখশ্রীর কথা স্মরণ করে ভাবে- উড্ডীনকালে আলোর বিপরীতে সকল পাখিই কালো দেখায় আর মানুষ মূলত কথিত স্রষ্টার ন্যায় প্রশংসা পছন্দ করে
গল্প:০৪>
সামান্য সরকারী চাকুরে বাবার শুধু বেতনের টাকায় শহরের সংসার খরচ চালিয়ে গ্রামের দাদা-দাদীকেও কিছু টাকা পাঠিয়ে মাস শেষে যখন শূন্য হাত তখন অবিবেচক আমার একটা ফুটবলের আবদার তাঁকে বিব্রত করে এবং তিনি তা কিনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে সারা বিকাল কেঁদে টেদে হতাশার ঘুম শেষে জেগে পাশে একটা শাদাকালো ফুটবল আবিষ্কার করে আনন্দে আটখানা হয়ে দেখি সন্ধ্যা মিলিয়ে গেছে
গল্প:০৫>
বালকটি মসজিদের ইমাম হুজুরের কাছে কুরআন পাঠ শিখতে গেলে ইমাম হুযুর তার ছোট ভাইয়ের কথা স্মরণ করে কাঁদে আর কুরআন ছুঁয়ে ছেলেটিকে শপথ করায় যে হুযুর যা বলবে বা করবে তা অন্য কাউকে কোনদিন কোনসময় কোনভাবেই বলা যাবে না এবং ছেলেটি সরল মনেই এই শপথ করে তারপর হুযুর তাকে আড়ালে অন্ধকারে ডেকে নিয়ে যায় এবং অন্ধকারে রক্তাক্ত হয়ে ছেলেটি নরপশুর কুৎসিত রূপ যখন আবিষ্কার করে তখন সেই কথিত পবিত্র গ্রন্থের কোন পৃষ্ঠায় সেই রক্তের দাগ লেগে থাকে কিনা জানতে চায়লে পীরে আওলিয়া হুজুরে কেরামত দরবারে চিশতী মাওলানা আবদুল বাসেদ ইসলামপুরী প্রথমে বিভ্রান্ত হন অতঃপর গলা খাকড়ি দিয়ে “সব আল্লাহু রাব্বুল আলামিনের ইচ্ছা, তিনিই পবিত্র রাখেন সকল অপবিত্রতা থেকে” বললে মাজহারুল ইসলাম মুন্না মনে মনে বলে ওঠে ‘হারামজাদা’
গল্প:০৬>
বাইগনবাড়ি স্টেশনে মাঝরাতে ট্রেন থেকে নেমে বাড়ি ফেরার জন্য কোন রিকশা বা ভ্যান না পেয়ে অমাবশ্যার অন্ধকারে একা একা হেঁটেই রওয়ানা হলে একটি কুকুর তার সঙ্গী হয় কিন্তু মনতলা বাজার পেরুতেই কুকুরটি নিরুদ্দেশ হলে তার সদ্যমৃতা স্ত্রীর কথা স্মরণ হয় এবং বাকীটা পথ একাই চলতে হবে ভেবে বুকের ভেতর একটা শূন্যতা অনুভব করতে থাকেন
গল্প:০৭>
ঢাকা ফেরৎ শেফালি তার গর্ভের সন্তানের জনক 'সাইদুলমিয়া' দাবী করলে সাইদুলমিয়া তা অস্বীকার করে কিন্তু সমাজের গণ্যমান্য জঘন্য ব্যক্তিবর্গ সালিশে তাকে লুচ্চা, লম্পট অভিহিত করে কাজী ডেকে শেফালির সাথে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়ার পর বাসর রাতেই সাইদুলমিয়া বাড়ির পাশের কামরাঙা গাছের ডালে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে কারণ সে কাউকেই বুঝাতে পারেনি কেবল চুম্বনে গর্ভসঞ্চার হয় না
গল্প:০৮>
জ্ঞানের ঘাটে রাতের অন্ধকারে চুপচাপ দাঁড়িয়ে নীরবে করিমন বিবি কাঁদতে থাকার সময় হঠাৎ শহর আলি তার পাশে এসে দাঁড়ালে শহর আলির শরীরের ঘ্রাণ তাকে মোহিত করে এবং শহর আলি তাকে বুকে টেনে নিলে সালমার লাল জুতা আর রঙিন শাড়ির মতো তারও লাল জুতা আর রঙিন শাড়ি না থাকার ব্যথা ভুলে যায়
 গল্প:০৯>
উঠোনে ধরানো আগুন থেকে পোড়া মিষ্টি আলুর খোসা ছাড়িয়ে একটুকরো ভেঙ্গে মুখে দিয়ে চিবুতে চিবুতে ভাবে- 'গত বছরের তুলনায় এবার শীত কি বেশি পড়লো, নাকি 'সে' চলে যাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে!' যদিও প্রতিটি শীত চলে গেলে আমরা পরিযায়ী পাখির কথা ভুলে যাই
গল্প:১০>
সে তার অবসন্ন দেহটি ছড়িয়ে দেয় মেঠোঘরের শীতল বিছানায় তখন নৃত্যরত জোছনা চালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে জন্ম দেয় শাদা ও নরোম দ্বিতীয় মানুষটির তারপর সে আঙুলে জড়ায় স্পর্শ আর কোথাও একতালে গাঢ়ো অথচ ধীর লয়ে বেজে ওঠে স্প্যানিশ গিটার
গল্প:১১>
স্কুলে দেরী করে আসায় প্রথম বেঞ্চে স্থান না পেয়ে প্রতিদিন শেষের বেঞ্চে বসা আমার পাশে প্রথম সে বসে এবং স্কুল শেষে আমাকে বন্ধু ডেকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে তার অনেক খেলনা দিয়ে দু'জনে দীর্ঘ সময় খেলি কিন্তু ফেরার সময় তার একটা খেলনা পাওয়া যাচ্ছে না বলে আমার ব্যাগ সার্চ করে সেখানে কোন খেলনা না পেয়ে বলে – ‘সরি , দোস্ত’ আর আমি কোনদিন কাউকে বন্ধু ভাবতে পারি না
গল্প:১২>
দূরে কোথাও নিশিপাখি কর্কশ কণ্ঠে ডেকে ওঠলে ভয়ে সে আমার ঘনিষ্ট হয়ে শক্ত করে হাত ধরে থেকে ভয় দূর করে অথচ আর একটু পথ হাঁটলেই নির্জন ডুবাটার পাশে আমি তার গলা চেপে ধরবো
গল্প:১৩>
সুপর্ণার বাম স্তনে একটা কালো তিল আছে এই কথা ক্যাম্পাসে রতন ছড়িয়ে দিলে সে কথা সোহানের কানেও যায় আর সোহান যখন সুপর্ণাকে অবিশ্বাসের চাবুকে আঘাত করে তখন প্রচণ্ড আহত সুপর্ণা ভাবে কোন কুক্ষণে সে তার রুমমেট আবিদাকে জানিয়েছিলো তার একটি গোপন তিলের কথা
গল্প:১৪>
ছোট্ট মেয়েটির গাল টিপে আদর করে "এমন কিউট একটা বেবিকে রেখে তার মা কাজে যায় কী করে, হুমমম? আপনাদের তো অভাব নেই, ভাবীর চাকরি করতে হয় কেন বুঝি না" এই কথা বলে সে মেয়েটির বাবার মন ও মনোযোগ আকর্ষণ করে আর অচিরেই আমরা একটা খেলা জমে উঠতে দেখবো কেননা শী ইজ অ্যা গেইমার
গল্প: ১৫>
এ এক আজব ব্যাপার ঘটে যায় দুপুরে যখন সে একচোখাবৃদ্ধের দেয়া হলুদ মাল্টা ফল কেটে স্বামীর পরিবর্তে গোপন বন্ধুকে দেয় তখন সে দেখে মাল্টা থেকে লাল ডালিমের রস বেরোয় আর তার নিজের উরুসন্ধি বেয়ে নেমে আসে চাক চাক রক্ত এবং স্বামীটাও হয়তো তখন পান করছিলো লাল ডালিমের রস কিংবা বেকুবটা তখন হলুদ আলোর বদ্ধঘরে বসে হিসাব কষছিলো অথবা মাইলের পর মাইল সূর্যতাপে দগ্ধ হয়ে শূন্য মাঠে ঘেমে ঘেমে হাঁটছিলো
গল্প: ১৬>
বৃদ্ধ রিকশাওয়ালাটিকে জোয়ান রিকশাওয়ালাটি দ্রুতগতিতে অতিক্রম করে গেলে বৃদ্ধটি “অই পইড়া গেছে!” মিথ্যা বলে, ফলে তরুণ রিকশাওয়ালাটি গতি কমিয়ে থামে আর বৃদ্ধটি তাকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে গিয়ে মিট মিট হাসে এবং অনতিবিলম্বে তরুণ রিকশাওয়ালাটি পুনরায় দ্রুতগতিতে বৃদ্ধকে অতিক্রম করতে চাইলে প্রথমে সাইড দেয় কিন্তু পরক্ষণেই রাস্তার মাঝখানে চলে আসে তখন তরুণ রিকশাওয়ালাটি রিকশার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে র্দুঘটনার শিকার হলে বৃদ্ধটি চোয়াল শক্ত করে চাবিয়ে চাবিয়ে বলে, ‘শালার জৈবন’
গল্প: ১৭>
এ্যাকুরিয়ামের মাছগুলো কথা বলা শিখে গেলে আমরা একটি একটি করে তাদের সবকটিকে মেরে ফেলে নিঃশ্চিন্ত হলাম
গল্প: ১৮>
চতুর্থবারের মতো আত্মহননে ব্যর্থ হলে সে আমার পিঠে হাত রেখে গাঢ়ো কণ্ঠে বলে, 'চুপচাপ বেঁচে থাকাই আত্মহত্যার সহজ উপায়' তখন আকাশে একটা চিল সূর্যের চারপাশে উড়ছিলো কিনা মনে নেই
গল্প: ১৯>
খরায় সকল জলাশয় শুকিয়ে সব মাছ মরে গেলে গভীর জলাশয়টির শেষ জলটুকুতে একটি পুঁটি মাছ তখন জীবিত ছিলো, তার পাশেই বাঁশের খুঁটিটিতে ক্ষুধার্ত মলিন কাতর মাছরাঙা বন্ধুটিকে বসে থাকতে দেখে- "বন্ধু, আজ দুপুর পর্যন্ত রোদ গড়ালে এই জলাশয়ের শেষ জলবিন্দুটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে আর তখন আমার মৃত্যু নিশ্চিত; এর চেয়ে তুমি আমাকে খেয়ে ফেল, তুমি অন্তত একদিন বেশি বাঁচবে" এই কথা বলে এবং যখন দুপুর গড়িয়ে গেল আর মাছরাঙা চোখে জল নিয়ে প্রিয় বন্ধু পুঁটি মাছটিকে খেতে শুরু করলো তখন পুঁটি মাছটি মরে যেতে যেতে তার নিজের রক্তে মাছরাঙার বুকটি লাল করে দিয়ে গেল
গল্প: ২০>
শঙ্খমিত্রার ম্যালা জল শুকিয়ে গেলো এবং অনেক নৌকার পালও বদল হলো এই ত্রিশ বছরে তবুও ফুলবানুর খোঁজ আর না পেয়ে সকলেই তাকে প্রায় ভুলে যায় আর আক্কেল মিয়াও তার শালিকা পরীবানুকে বিয়ে করে ত্রিশ বছরের সংসার যাপন করে কিন্তু মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে আক্কেল মিয়া যখন অবচেতন মনে ডুকরে কেঁদে বলে, ‘ও ফুলবানু, তুই আমারে ক্ষমা করিস ফুলবানু’ তখন পরীবানু ভাবে তার বোনের প্রতি আক্কেল মিয়ার প্রেম বুঝি চাগার দিয়ে ওঠে কিন্তু কারো কারো মনে এই প্রশ্ন উঁকি দিয়ে ওঠে যে, ক্যান আক্কেল মিয়া মরার সময় ফুলবানুর কাছে ক্ষমা চায়?
শেষ গল্প>
কিশোরী মেয়েটি তার টিউটরের প্রেমে পড়ে গেলে মা তা বুঝতে পারে এবং এক সন্ধ্যায় মা টিউটরের হাত ধরে বসে থাকে তারপর মেয়েটিকে বলে, তোমার টিউটরের মতো অসভ্য আমি দেখিনি, সে আমার হাত ধরতে চায়, আমি ভদ্রতার খাতিরে কিছু বলিনি, শুধু বেতন দিয়ে বলেছি আর যেন এ বাসায় না আসে

বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১১

চোখ মরে গেছে, মিথ্যা আলোয় দৃশ্য রচনা করে মন

১
আয়নায় মুখ দেখি। এতবার দেখা মুখ তবু অচেনা ঠেকে। এই যে জড়িয়ে যাচ্ছি অচেনা আমিতে, যখন বিস্মৃতির জঙ্গল থেকে জেগে উঠবে বিষধর কেউটে, তখন তুমি কি করবে? শুধাই আমায়। আমি একচিলতে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থেকে বার বার ঘুরে ঘুরে আমাকে দেখি। চোখের পাতায় আঁকি মৃত্যুরঙের ফুল।

নিজের ভেতর অবলুপ্ত শহর। আমি তার মেয়রকে গোপনে চিঠি লিখি।
২
সে বলে এই সত্যের আড়াল থেকে তুমি বেরুতে পারবে না। দেখো এই বিরান ভূমি। আমার ভেতর লাল হয়ে জমে থাকা তৃষ্ণা। তুমি আমাকে স্পর্শ কর একবার মৃত্যুর জন্য। এই আড়ালে তোমার মগ্নতা ভেঙ্গে ফেলো ঋষি। দেখো আমি উতলা পুঁই গাছ।

একটা বন্ধ ঘরে আমি তখন জেগে উঠি। রোদ।
৩
শৈশবে আমাদের এখানে এক মহিলা ভিক্ষুক আসতেন ভিক্ষা নিতে। তার একটা চোখ পাথরের ছিলো। সে এসেই তার পাথরের চোখ খুলে আমাদের তাক লাগিয়ে দিত। তারপর আমরা আবার তার চোখ খুলে ফেলার খেলা দেখতে চাইতাম। কিন্তু সে তখন তার অনেক ক্ষতি হবে বলতো এবং ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সে পুনরায় চোখ খুলে দেখাতে রাজী হওয়ার কথাও বলতো, আমরা তখন খেলা দেখতে নারাজ হতাম। একদিন খুব অভাবে পড়ায় সম্ভবত সে দশ টাকার বিনিময়ে তার চোখ খুলে দেখানোয় রাজী হয় কোন রকম ক্ষতিপূরণ ছাড়াই। একটা স্বচ্ছ গ্লাসে চাপকলের শীতল জলে তার পাথরের চোখটি খুলে রাখে সে, আমরা বিস্মিত হয়ে সেই চোখটিকে গ্লাসের জলে ভাসতে দেখি। বড় কুৎসিত লাগে।

বহুদিন পর নিজেকে জলে ভাসা কুৎসিত চোখ বলে মনে হচ্ছে। আমার পাপবিদ্ধ মন।
৪
মনবাড়িতে একা একা ট্রেনকাটা রোদে দাঁড়িয়েছিলাম। অদূরেই এক জাদুকর তার ঝোলার ভেতর থেকে বের করে আনলো অনেকগুলো মরা চোখ। ঘোর লাগা চোখে আমরা সেই চোখ দেখি। দেখি রুমালের আলোড়নে মাটি হয় ধন। ছুঃমন্তরে শূণ্য থেকে ধরে ধরে আনে নতুন টাকার নোট। তবুও জাদু শেষে সে বিক্রি করে কৃমির ওষুধ।

জানি তার চোখ মরে গেছে। তবুও মিথ্যা আলোয় দৃশ্য রচনা করে মন।
৫
সত্য এই, মানুষেরই রয়েছে মানুষের রূপ। কেউ একটা ভুল পথে অন্ধকার, আমার চোখ জুড়ে রোদ চশমা। অন্ধপাখির গান। মজে আছি ডুবোপ্রেমে, আঙুলের স্পর্শে সোনা হয় কাঠ। স্মৃতি মুছে চাষ করি শিলালিপি। মেঠোঘরে পাঠ করি দেয়াল লিখন। রাত্রি এসে ফিরে যায় ঘুম শহরের পথে একা একা। আজ কোন ট্রেন আসেনি। হেঁটে হেঁটে ঘরে ফিরি তার কাজলটানারাতে।

তরল সকল প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে গতিশীল, বুঝি প্রেম

সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

স্বপ্নঘুড়ি


ছেলেটা রুদ্রঘাসে নিজেকে জড়িয়ে রাখলো বহুক্ষণ। শঙ্খমিত্রার জলে স্নান শেষে চরে হাঁটলো, দৌড়ালো এবং বসেও থাকলো চুপ করে বেশ সময়। ছেলেটা মাটিতে ঘুড়ি আঁকলো, লাল। ঘুড়িটা হঠাৎ করেই উড়ে গেল দূর। ঘুড়িটায় জড়িয়েছিলো রোদ আর ঘুড়িটা বাতাস হয়ে উড়ে। উড়ে উড়ে ছাদের কানির্শের কোন এক তারে ঘুড়িটা জড়িয়ে নেয় নিজেকে। ছেলেটি হাত বাড়িয়ে ধরতে চায় খুব, কিন্তু ঘুড়িটি নাগাল থেকে দূর। তবু ক্রমাগত সে চেষ্টা করে যায়। দূর থেকে ভেসে আসে মায়ের কণ্ঠে ডাক – মি হি র; মি হি র ; মি হি র ।

অতঃপর সে জেগে ওঠে। ভোরের আলোয় আটকে থাকা দেয়াল। তার শরীর জুড়ে কাঁপন। মায়ের ব্যস্ততা। বাবার নীল শার্টে রুদ্রের ফুল আঁকা। আজ স্নান ঘরে মিহি স্তব্ধতা। জল নেই। স্নান নেই।

আকাশটা নীল। ছেলেটির স্কুলে পড়ার ড্রেস। কাঁধে থলে বোঝাই বই। সে যখন স্কুলে যায় তখন আকাশে উড়ে সাহাবুদ্দিনের হলুদলাল ঘুড়ি। আরো কয়েকটি ঘুড়ি ওড়ে, নীল আর সবুজ। সাহাবুদ্দিনের ঘুড়ি হলুদ আর লাল মিলেই হয়। ঘুড়ি দেখতে দেখতে আর মনের মাঝে একটা লাল ঘুড়ি আঁকতে আঁকতে ছেলেটি স্কুলে যায়। সে ঘুড়ি হয়ে উড়ে উড়ে যায়।

সারাটা দুপুর জানলা দিয়ে আকাশ দেখে, পড়তে ইচ্ছে হয় না তার। লিখতেও ইচ্ছে হয় না কিছু। স্যারও কেমন ঢুলেন! একটা সাইকেল আঁকতে ইচ্ছে করে মিহিরের, কিংবা একটা চিল অথবা লাল ঘুড়ি। সাহাবুদ্দিনের হলুদলাল ঘুড়িটাকে দৈত্য মনে হয়। রঙিন রঙিন ঘুড়িগুলোকে কেটে দেয়। ওগুলো উড়তে উড়তে কতদূর চলে যায়! তার লাল ঘুড়িটাকেও সাহাবুদ্দিনের ঘুড়ি কেটে দিয়েছিলো। সে কাটাকুটি খেলতে চায়নি। কি সুন্দর উড়ছিলো ঘুড়িটা! হঠাৎ সাহাবুদ্দিনের হলুদলাল এসে প্যাঁচ লাগিয়ে দেয়। সুতা টেনে টেনে নামাতে ঘুড়িটা কেটে দেয়। টানটান ঘুড়ির বুক কেটে দিতেই কেমন বাঁধন ছাড়া হতাশ প্রাণহীন উড়ে যায়। কতদূর যায়! ক ত দূ র!! আহারে লালঘুড়িটা!!

স্কুল শেষে কোচিং, তারপর ব্যাচে প্রাইভেট টিচারের কাছে পড়া শেষ করে সন্ধ্যা আর সে এক সাথেই ঘরে ফিরে। তখন সব ঘুড়ি আকাশ থেকে নেমে যায়। বাতাসে শাদা শাদা আযান ভাসে। বাসার কাছে আসতেই দেখে তাদের বাসার ছাদের কার্ণিশের কাছে সুপারি গাছটায় একটা লাল ঘুড়ি ঝুলে আছে। হয়তো কেটে এসেছে কোথাও থেকে। সে দৌড়ে ছাদে উঠে। কার্নিশের কাছে ছুটে যায়। একটুর জন্য ধরতে পারে না সে ঘুড়িটাকে। আর একটু হাত বাড়াতেই সে ঘুড়ি হয়ে উড়তে থাকে। ধাতব আঘাতের একটা ভোঁতা শব্দ শ্রবণে আর যন্ত্রণা অনুভূতিতে থাকে। আর তখন আর সন্ধ্যা থাকে না। একটা উজ্জ্বল আলোয় নীল আকাশে সে লালঘুড়িটাকে নিয়ে উড়তে থাকে। সকল কাটা ঘুড়ির মতো সে আর লাল ঘুড়িটা দূরে উড়ে যেতে থাকে।

মিহিরকে জড়িয়ে ধরে তার মা রিক্সা করে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। রক্তে মায়ের শাড়ি ভিজে যায়। মা ‘মিহির মিহির’ নামে ডাকে। কিন্তু তিনি জানেন না, মিহির তখন লাল ঘুড়ি হয়ে অনেক দূর উড়ে গেছে।

শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১১

ইচ্ছেগুলো একেকটা পাখি

১
যেতে যেতে মনে পড়বে তোমার স্মৃতি। আমি তখন একটা মেঠোপথ, ঝুমুর দুপুর। একটা উড়ন্ত চিল। তার পালকের ছায়ায় আহত রোদ। আলস্যে ক্ষয়ে যাওয়া গোলাপ পাপড়ি। কারো নথ জুড়ে বিষণ্ণতা নিয়ে জমে থাকা সুন্দর। তোমার নখে মুছে যাওয়া ম্লান নেইলপালিশ। ঝড়ের বাতাসে ঘূর্ণায়মান ঝরাপাতা। ঘুমে জড়িয়ে থাকা চোখের পাতা।


ইচ্ছেগুলো একেকটা পাখি। পাখিরা উড়ে যায়।
২
দেখো ক্ষয়ে গেছে দুপুরের রোদ, এলো চুলে হেলানো নারকেল গাছটার ছায়ায় জমজ পাখি। এক পায়ের এক শালিখ উড়ে এসে খুঁটে খায় অন্ধকার। বেঞ্চিটার একপাশ খালি। তুমি এখন নীল রঙের জোছনা জড়িয়ে পরী, দূরে কোথাও। তুমি একটু এ দিকে এসো। এইখানে। আমার আঙুলগুলো ছুঁয়ে দেখো, কম্পমান।


আমাকে স্পর্শ কর, আমি আহত।
৩
সে আমাকে খুব ডাকে, ডেকে ডেকে বলে- আমার নাম বলো। বলো দীর্ঘ ই। আমি কবেই ভুলে গেছি ভাষা। তাই চুপচাপ তার চোখ দেখি। তার চোখে দীর্ঘ অমাবশ্যা। তার কণ্ঠে নদীর গাঢ়ো মায়া স্রোত। একদিন নদীতে ভেসে গিয়েছিল একটা মরা হিরামন পাখি। সেই থেকে সুর ভুলে গেছি।


ভেতরে তার নাম জপে বোবা হয়ে থাকি।
৪
চলে গেলেও পারি, কিন্তু কোথায় যাব? আমারতো একার একটা পাহাড় নাই, একটা নদীও নাই। আমার কেবল আমিই থেকেছি সারাজীবন। যদিও প্রতিবার রক্তের ভেতর জেগে থেকে দেখেছি গোপন; আর বার বার ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়েছি শহরের প্রাচীন দেয়াল। তবুও কোথায় যেন হারিয়ে যাওয়ার আগে কেউ আমাকে পত্র দিতো চুপচাপ, আমন্ত্রণ জানাতো তার ভেজা শহরের নিঙরে নেয়া আলোয়। এবং আমি নীরবে ভোরের দিকে মরে পড়ে থাকতাম.... কোথাও


জানি না
৫
সারাটা সন্ধ্যা বিষণ্ণতায় একা রেললাইন
দ্বিধার আঙুলে স্পর্শ করি রাত
শিরা কেটে আত্মহত্যা করে গভীর ছায়া
আমি আর ছায়া মিলেমিশে একাকার


লাল লাল রক্ত জবা
৬
চোখের শরবনে একটা দৃশ্যের নগর। সেখানে পুরাতত্ত্বের গভীর বিজ্ঞান। আলো ফেলে উজ্জ্বল উদ্যান। উড়ে এসে গান গায় হিরামন পাখি। পাখির পালকে উৎসবের জরি। এই শহরে বর্ষা নেমে এলে গান হয় চারুবন। নীল আলোয় রাত্রিধোয়া শরীরে ক্ষয়ে যায় পুরাতন।


কেবল বৃষ্টির উৎসবই নূতনকে স্বাগত জানানোর উৎসব হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।
৭
স্বপ্নে হারিয়ে ফেলেছি মায়ের নাকফুল। দাদুর নাক থেকে যেটি উত্তরাধিকারে মায়ের নাকে শোভা পেয়েছিল। ছোট্ট বড়ইয়ের ফুল। শেষ বিকেলে সবুজ পথটা সোনা রঙে ভাসে। আমি সেই সোনা বড়ইয়ের ফুল খুঁজে খুঁজে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আনি।


নাকফুল। জ্বল জ্বল করে জ্বলে সন্ধ্যার আকাশে। আমি একটাও কুড়াতে জানি না।
৮
সম্পর্ক বয়ে আনা সন্ধ্যায় দু'জন জীবনে মিশে যাওয়া ট্রেন লাইন। পাশাপাশি অথচ আলাদা। শাদা দীর্ঘ চিকন দুটি সাপ অন্ধকার চুষে চলে। দূরে কোথাও ভ্রমে একাকার, বাস্তবে আমৃত্যু পৃথক।


সন্ধ্যার ট্রেনলাইন। শীতল বাতাস। দূরে সিগন্যাল।
৯
যখন নিজের ভেতর নিজেই ডুবে ডুবে দিগভ্রান্ত তখন তোমার চিঠির আর প্রয়োজন হবে না ভেবে দু'টি জীর্ণ চোখে বুনে দেব স্বপ্ন, ওরা সুন্দর হয়ে উঠবে। আসলে এগুলোর কোন মানে নেই। যেমন অর্থ খুঁজে পাইনি আমি বেঁচে থাকার।


অথচ ফল পাকার দিনে একটা পাকা ফল হয়ে ঝুলে থাকতে চেয়েছি চিরকাল।

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১১

ধান ক্ষেতে আমি একটা কালো সাপ

বাবা প্রতিদিন সকালে অফিসে যান, সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফেরেন। ফেরার পথে বাজার করে আসেন কখনো কখনো। মা বাজার গুছাতে থাকেন। মাছ আনলে মার কাটতে সময় লাগে। বাবা তখন মাকে সাহায্য করেন। দু’জন কুটকুট করে কথা বলেন আর মাছ কাটেন। তারপর টিভি দেখেন। রাতের খাবার খান। তারপর বাবা মশারি টানান। মা কখনো মশারি খাটান না। সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি কখনো বাবাকে দেখি না, ততক্ষণে অফিসে চলে গেছেন। ছুটির দিন হলে বাবা বাসায় থাকেন। বাবাকে রাগতে দেখি না, বিরক্ত হতে দেখি না। একদিন ছুটির দিনে সন্ধ্যায় বাবা বসে টিভি দেখখছিলেন, মা সেদিন গ্রামের বাড়িতে গেছেন। আমি বাবার পাশে বসলাম, বাবার চোখ টিভির দিকে। মুখ হাসি হাসি। যদিও বাবার মুখ সর্বদাই হাসি মাখানো থাকে। আমি বাবাকে বললাম, বাবা তুমি কি করে এভাবে বেঁচে থাকো, তোমাকে হিংসা হয়; আমার যে বেঁচে থাকতে ভালো লাগে না। বাবা তাঁর ডান হাতটা আমার পিঠের উপর আস্তে করে রাখলেন।
 _________________________________________________________________

বাবার একটা ট্রেনিং ছিলো, তখন বাবার বেতন বন্ধ ছিলো দশ মাস। আমি আর মা তখন গ্রামের বাড়ি ফিরে আসি। আমার স্কুলটা ছিলো অনেক দূরে। সকালে হাঁটতে হাঁটতে স্কুলে যেতাম। দুপুর হলেই আমার স্কুল ভালো লাগতো না। চনমনে রোদে আমি স্কুল পালাতাম। তারপর একা একা হাঁটতাম। দূরের কালো গারোপাহাড় আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতো। শাদা শাদা মেঘেরা ভেড়া বানাতো, পাহাড় বানাতো, আলাদিনের দৈত্য বানাত। ধান ক্ষেতের আড়ালে চুপচাপ বসে থাকতাম একা একা। সবুজ ধানক্ষেতের গন্ধ ভালো লাগতো। একদিন ধান ক্ষেতে আমি একটা কালো সাপ দেখেছিলাম। আমার এতোটা পথ হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরতে কষ্ট লাগতো।